তারাবীহ, তাহাজ্জুদ ও বিতর সালাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর | রমজানের ফজিলত 🌙
📖 🕋 BongoCyber Islamic Blog
💠
রমজান মাসে মুসলমানদের ঘরে ঘরে যে আমলটি বিশেষভাবে দেখা যায় তা হলো — তারাবীহ, তাহাজ্জুদ ও বিতর সালাত।
তবে অনেকেই এই নামাজগুলোর নিয়ম ও পার্থক্য নিয়ে বিভ্রান্ত থাকেন।
আজ আমরা জানব 💡— চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরে আলেমদের দলীলভিত্তিক ব্যাখ্যা।
![]() |
| তারাবীহ, তাহাজ্জুদ এবং বিতর সালাত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর |
❓ প্রশ্ন–১:
জামাআতের সাথে তারাবীহ পড়ার পর, শেষ রাতে আবার তাহাজ্জুদ পড়তে চাইলে করণীয় কী?
✅ উত্তর:
এর দুটি সঠিক পদ্ধতি আছে 👇
🕋 ১️⃣ প্রথম পদ্ধতি:
ইমামের সাথে বিতর নামাজ আদায় করে নিন, এরপর রাতে তাহাজ্জুদ পড়ুন — তবে বিতর পুনরায় পড়বেন না।
🔹 কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
“এক রাতে দুটি বিতর নেই।”(আবু দাউদ: হা/১২৯৩; তিরমিজি: হা/৪৭০)
🕋 ২️⃣ দ্বিতীয় পদ্ধতি:
বিতরকে শেষ রাতে রাখুন।
ইমাম যখন বিতর আদায় করবেন, তখন আপনি সালাম না ফিরিয়ে এক রাকাত যোগ করুন, যেন রাতে বিতর আদায় করতে পারেন।
রাসূল ﷺ বলেন:
“তোমরা বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত করো।”(বুখারী: হা/৯৯৮; মুসলিম: হা/৭৫১)
🔹 ইবন বায (রহ.) বলেন:
কেউ ইমামের বিতর শেষে এক রাকাত যোগ করে শেষ রাতে বিতর আদায় করতে চাইলে তাতে সমস্যা নেই।(মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, ১১/৩১২)
🔹 শাইখ ইবনে জিবরীন (রহ.) বলেন:
ইমামের সাথে বিতর পড়া উত্তম, যাতে কিয়ামুল লাইলের পূর্ণ সওয়াব পাওয়া যায়।(ফাতাওয়া রমজান, পৃ: ৮২৬; ইসলাম সুওয়াল জাওয়াব: ফাতাওয়া ৬৫৭০২)
❓ প্রশ্ন–২:
যদি কেউ এশার নামাজ না পড়ে তারাবীহ জামাতে আসে, তাহলে কী করবে?
✅ উত্তর:
সে ইমামের সাথে এশার নিয়তে যোগ দিবে, ইমাম সালাম ফিরালে একা বাকি রাকাতগুলো আদায় করবে, তারপর তারাবীহ পড়বে।
🔹 ইমাম উসাইমীন (রহ.) বলেন:
ইমামের নিয়ত নফল হলেও মুক্তাদীর ফরজ নিয়তে নামাজ পড়া জায়েজ।(আশ শারহুল মুমতে, ৪/৯১)
🔹 ইবন বায (রহ.) বলেন:
এশার নিয়তে তারাবীহ জামাতে অংশগ্রহণ করা বৈধ।(মাজমূ‘উ ফাতাওয়া, ১২/১৮১)
❓ প্রশ্ন–৩:
ইমামের সাথে পুরো তারাবীহ শেষ করা কি জরুরি?
✅ উত্তর:
হ্যাঁ, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ❗
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“যে ব্যক্তি ইমামের সাথে নামাজ পড়ে যতক্ষণ না ইমাম শেষ করে,আল্লাহ তার জন্য সারারাত নামাজের সওয়াব লিখে দেন।”(আবু দাউদ: হা/১২২৭; তিরমিজি: হা/৬৪৬)
❓ প্রশ্ন–৪:
রাতে বিতর বা কিয়ামুল লাইল না পড়তে পারলে করণীয় কী?
✅ উত্তর:
যদি রাতে না পড়তে পারেন, তাহলে ফজর ও যোহরের মাঝে কাযা হিসেবে আদায় করুন।
তবে এই সময় জোড় সংখ্যায় পড়বেন (বিতরসহ)।
(সহীহ মুসলিম: হা/৭৪৬; মিশকাত: হা/১২৫৭)
🌙
🕋 তারাবীহ, তাহাজ্জুদ ও বিতর— এ তিনটি নামাজ রমজান মাসের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আমল।
যারা নিয়মিত পালন করেন, তারা আল্লাহর বিশেষ রহমত ও নিকটতা অর্জন করেন।
অতএব, এই নামাজগুলো যেন শুধু অভ্যাস নয়, বরং ইখলাস ও নিয়মিততার সাথে পালন করা হয়— এটাই প্রকৃত সফলতা 💖।
👇 Please Subscribe Our YouTube Channel 👇

0 Comments
Please Do Not Enter Any Spam Link In The Comment Box.